আমরা সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। এর জন্য দরকার একটা স্বাস্থ্যসম্মত গৃহ। যেখানে বাস করলে আমাদের শরীর ও মন ভালো থাকবে। এই গৃহের পরিবেশকে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে হলে এর ভিতরের ও বাইরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে লক্ষ রাখতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি গৃহ আমাদের দিতে পারে আরাম ও সুস্থতা। আমাদের গৃহের প্রতিটি জায়গা এবং এর আনাচে-কানাচে পরিষ্কার রাখতে হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন গৃহ পরিবেশে মশা-মাছি পোকামাকড়ের উপদ্রব থাকে না, ফলে রোগজীবাণু সহজে ছড়াতে পারে না। দূষণমুক্ত পরিবেশে বাস করতে পারলে আমাদের শরীর ও মন ভালো থাকবে।
অভ্যন্তরীণ স্থানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: গৃহের অভ্যন্তরে আমরা বেশি সময় থাকি, নানারকম কাজ করি, বিশ্রাম নেই। সেজন্যে এর সব জায়গাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা দরকার।

অভ্যন্তরীণ স্থানে যেসব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হয়-
- ঘরের মেঝে ঝাড়ু দেওয়া, মোছা বা লেপা।
- দরজা, জানালার গ্রিল, কাঁচ পরিষ্কার করা।
- দেয়াল, সিলিং, বৈদ্যুতিক পাখা পরিষ্কার করা।
- কাপড়-চোপড় ধোওয়া।
- সিঙ্ক, বেসিন, কলতলা পরিষ্কার করা।
- আসবাবপত্র ঝাড়া, মোছা, রং করা।
- বাতিল ও অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলা।
- বাথরুম, টয়লেট পরিষ্কার করা।
- বাড়িতে রং এবং মেরামত করা ইত্যাদি।
কিছু কিছু পরিষ্কার করার কাজ প্রতিদিন করতে হয়। আবার কিছু কিছু কাজ সপ্তাহে, মাসে বা বছরে একবার করলেও হয়। অন্যান্য কাজের মতো গৃহ পরিষ্কার করার কাজগুলোরও একটা পরিকল্পনা করে নিতে হয়।
অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করে নেওয়া যায়।
(১) দৈনিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা : প্রতিদিন সব ঘর, বারান্দা ঝাড়ু দেওয়া ও মোছা বা মাটির ঘর লেপা, আসবাবপত্রের উপরিভাগ মোছা, বিছানা গোছানো, বই, খাতা গোছানো, রান্নাঘর ও অন্যান্য ঘরের দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখা, প্রতিদিনের ব্যবহার করা কাপড় ধোওয়া। এছাড়া কলতলা, বেসিন, সিঙ্ক, গোসলখানা, পায়খানা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়। প্রতিদিনের ময়লা, আবর্জনা সরিয়ে ফেলাও দৈনিক পরিচ্ছন্নতার কাজ।
(২) সাপ্তাহিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা : দেওয়াল ও সিলিং এর ঝুল ঝাড়া, দরজা-জানালার গ্রিল, কাচ ঝাড়া ও মোছা, বৈদ্যুতিক পাখা পরিষ্কার করা, বিছানার চাদর, বালিশের কভার ধোওয়া, রান্নাঘরের তাক পরিষ্কার করা, কার্পেট থাকলে তা ঝাড়া ও রোদে দেওয়া। ফ্রিজ থাকলে তার ভিতর ও বাইরে পরিষ্কার করা ইত্যাদি সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতার মধ্যে পড়ে।
(৩) বাৎসরিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আসবাবপত্র রং করা, বড় বড় আসবাবপত্র সরিয়ে মেঝে পরিষ্কার করা, বাড়ি মেরামত ও চুনকাম করা, বাক্সে বা আলমারিতে তোলা কাপড়, কাঁথা, লেপ, তোশক, কম্বল রোদে দেওয়া। এছাড়া কাঁচের বা কাঠের আলমারি বা বাক্সে তোলা কাচের প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি ধোওয়া ও মোছা বাৎসরিক পরিচ্ছন্নতার মধ্যে পড়ে।
যেহেতু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো অনেক ধরনের এবং যথেষ্ট কষ্টকর। তাই বাড়ির ছোট বড় সব সদস্যদের বয়স, শক্তি, দক্ষতা, অনুসারে কাজগুলো ভাগ করে দিতে হবে। ছোটরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশগ্রহণ করে এ ব্যাপারে সচেতন ও যত্নশীল হয়ে গড়ে উঠবে। তারা গৃহ পরিবেশ সম্বন্ধে সচেতন হবে এবং দায়িত্ব নিতে শিখবে।
গৃহ পরিষ্কার করার সামগ্রী :
ফুল ও শলার ঝাড়ু, প্লাস্টিকের বালতি, মগ, মাটির গামলা, ব্রাশ, ঝুলঝাড়ু, মই, নারিকেলের ছোবড়া বা নাইলনের মাজুনী, নরম সুতি কাপড় বা তোয়ালে, সাবান, ভিম বা ব্লিচিং পাউডার, পুরনো খবরের কাগজ ইত্যাদি।

| কাজ-১ গৃহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য কোন কাজগুলো তুমি করো, তার একটা তালিকা তৈরি করো। কাজ-২ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোন কাজের জন্য কী কী সামগ্রী দরকার, তা চার্টের মাধ্যমে দেখাও। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কোনো কাজ কেন করা হবে, কীভাবে করা হবে, কে বা কারা করবে ইত্যাদি সম্বন্দ্বে 'আগে থেকেই ঠিক করা যায়। গৃহ ব্যবস্থাপনার একটি ধাপের মাধ্যমে। ফলে কোন কাজ কখন করা হবে তা বোঝা সহজ হয়।
সুগৃহিনী কেয়া তার গৃহের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেন। তিনি এ কাজে পরিবারের ছোট সদস্যদেরও সহযোগিতা নিয়ে থাকেন।
হেলেনা সব সময় গ্রীষ্মের ছুটিতে তার বাড়ি মেরামত করেন। বাড়ি মেরামতের ফলে সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে পড়ে। তাই তিনি তার ছেলেমেয়েদের কিছু কিছু কাজ ভাগ করে দেন যাতে তাড়াতাড়ি ঘরবাড়িগোছানো যায়।
Read more